অভিভাবকরা মৃত ব্যাক্তির চক্ষুদানের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। মারা যাবার ৬ ঘন্টার ভেতর চোখ/কর্ণিয়া সংগ্রহ করতে হয়, তাই চক্ষুদাতা মারা যাবার কিছুক্ষনের মধ্যে অভিভাবকরা সন্ধানীর সাথে যোগাযোগ করুনঃ 01511555567 অথবা 01785777744

“মরণোত্তর চক্ষুদান” বিষয়ক সাধারণ প্রশ্ন এবং উত্তর

প্রশ্ন ১ঃ কর্ণিয়া কি?

কর্নিয়া(ইংরেজি: Cornea)) চোখের সম্মুখ প্রান্তের স্বচ্ছ অংশ। আমরা চোখের কালো অংশ যা দেখি, তার উপরের পর্দার মত স্বচ্ছ অংশ হল কর্ণিয়া। স্বাভাবিক দৃষ্টির জন্য কর্নিয়া স্বচ্ছ থাকা আবশ্যক। কর্নিয়াতে কোন রক্তনালী না থাকাটা এর স্বচ্ছ হওয়ার অন্যতম একটি কারণ। স্বচ্ছতার কারণে এর ভেতর দিয়ে আলো চোখের ভেতরে প্রবেশ করে এবং পেছনের রেটিনার ওপর পড়তে পারে। তখন আমরা কোন বস্তুকে দেখতে পাই। কর্ণিয়া আলোক রশ্মি প্রবেশে সাহায্য করে।

প্রশ্ন ২ঃ কর্ণিয়াজনিত অন্ধত্ব কি?

কর্ণিয়া যতক্ষন স্বচ্ছ থাকে, আলো সহজে চোখের ভেতর প্রবেশ করতে পারে। কর্ণিয়া ঘোলা বা ঝাপসা হয়ে যেতে পারে যদি কোনো কারণে তার স্বচ্ছতা হারায়। কর্ণিয়াজনিত রোগ, বা দুর্ঘটনাজনিত কারনে কর্ণিয়া নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এই ফলে মানুষ দৃষ্টিশক্তি হারায়। একেই বলে কর্ণিয়াজনিত অন্ধত্ব।

প্রশ্ন ৩ঃ চক্ষুব্যাংক কি?

চক্ষু ব্যাংক হল অলাভজনক একটি প্রতিষ্ঠান যা চক্ষু সংগ্রহ করে, সংরক্ষন করে এবং কর্ণিয়াজনিত অন্ধ রোগীকে কর্ণিয়া বিতরন করে।

প্রশ্ন ৪ঃ কারা চক্ষুদান করতে পারবেন?

যে কেউ চাইলেই চোখ দান করতে পারে। চোখে ছানি পড়া, হ্রস্ব দৃষ্টি অথবা বয়স—কোনোটাই মরণোত্তর চক্ষুদানের ক্ষেত্রে বাধা নয়। তবে যেসব ব্যক্তি Hepatitis, AIDS, Encephalitis, Rabies, Septicemia, Retinoblastoma, Leukemia, Lymphoma, End stage of cancer , Creetsfeldt Jacob Disease প্রভৃতি রোগের কারণে মৃত্যুবরণ করে, তাদের মরণোত্তর চক্ষুদানের জন্য অনুপযুক্ত ধরা হয়।are fulfilled. মরণোত্তর চক্ষুদানের ফর্ম পূরণের পুর্বে আপনার দুইজন অভিভাবকের অনুমতি নিতে হবে। কারণ মরণোত্তর চক্ষুদাতার মৃত্যুর পর অভিভাবকদের সহযোগিতা ছাড়া চোখ সংগ্রহ সম্ভবপর হয় না। সুতরাং দুইজন অভিবাবকের অনুমতি নেয়া অবশ্য জরুরি।

প্রশ্ন ৫ঃ কেন চক্ষুদান করা উচিত?

মরণোত্তর চক্ষুদানের মাধ্যমে একজনের চোখ দিয়ে অন্যজন পৃথিবীর আলো দেখতে পারে। বাংলাদেশে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ অন্ধত্বের শিকার এবং এর মাঝে ৫ লাখ মানুষ হলেন কর্ণিয়া নষ্টের কারনে অন্ধত্বের শিকার। কর্ণিয়া প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে খুব সহজে এই ৫ লাখ মানুষের অন্ধত্ব মোচন সম্ভব। কিন্তু সচেতনতার অভাবে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে আছে চক্ষুদান কার্যক্রমে। তাই অন্ধ মানুষেরা অন্ধকার জগতে অসহায় জীবন পার করছেন। মরণোত্তর চক্ষুদানের মাধ্যমেঃ

  • একজন অন্ধ মানুষকে ফিরিয়ে দিতে পারে আলোর জগত। একজন মানুষ ফিরে পায় দৃষ্টিশক্তি, ফিরে পায় নতুন জীবন, ফিরে পায় সুস্থ জীবনের সৌন্দর্য।
  • চক্ষুদাতা অমর হয়ে থাকেন অন্যের চোখের মাধ্যমে।
  • অন্যকে নতুন জীবন দানের মাধ্যমে মনুষ্য জীবন সার্থক হয়ে উঠে চক্ষুদাতার।

প্রশ্ন ৬ঃ পুরো চোখ কি দান করতে হয়?

সাধারণত শুধুমাত্র চোখের কর্ণিয়া দান করতে হয়। তবে চক্ষুদাতার চোখের অবস্থা, সংরক্ষণ করার যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশেষজ্ঞের পৌঁছানো সমস্যার কারণে পুরো চোখ (Eyeball) দান করতে হয় যেন কর্ণিয়া সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যায়।

প্রশ্ন ৭ঃ কখন চোখ সংগ্রহ করা হয়?

মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় প্রয়োজন হয়। চক্ষুদানের জন্য দাফন-কাফন বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় নষ্ট হবে না।

প্রশ্ন ৮ঃ মরণোত্তর চক্ষুদাতার মৃত্যুর পর চোখ সংগ্রহ করতে কতক্ষন সময় দরকার হয়?

মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় প্রয়োজন হয়।

প্রশ্ন ৯ঃ চোখ সংগ্রহের পর কি মৃত চক্ষুদাতার মুখের গঠনের কোনো পরিবর্তন হয়? বা চক্ষুদানে মুখ কি বিকৃত হয়?

না। চোখ সংগ্রহ করা খুব সাধারণ একটা প্রক্রিয়া। চক্ষুদাতার চোখের পাতা বন্ধ রাখলে, বাইরে থেকে চক্ষুদানের কোনো কিছু বুঝা যাবে না।

প্রশ্ন ১০ঃ বাংলাদেশে কি চক্ষুদান আইনত অনুমোদিত?

মানব দেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন (সংশোধন) আইন ২০১৮ সনের ৫নং আইনের ধারা-৫ মোতাবেক

“চক্ষু বিযুক্তকরণের ক্ষেত্রে মৃতদেহ অন্য ব্যক্তির নিকট বা প্রতিষ্ঠান বা স্থানে থাকিলে উক্ত ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান বা স্থান যে জেলা প্রশাসকের প্রশাসনিক এখতিয়ারাধীন তিনি বা ক্ষেত্রমত, তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি যদি অনুরূপ বিযুক্তির জন্য লিখিত অনুমতি প্রদান করেন।” (তথ্যসুত্রঃ সন্ধানী চক্ষুদান সমিতি)

সুতরাং বাংলাদেশে বিদ্যমান আইন মোতাবেক যে কোন ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় কিংবা মৃত্যুর পর তার আইনানুগ নিকট আত্মীয়ের অনুমতি সাপেক্ষে মরণোত্তর চক্ষুদান বিধি সম্মত। সন্ধানী চক্ষুদান সমিতি’র মাধ্যমে মরণোত্তর চক্ষু দান করার মৌখিক অঙ্গীকারাবন্ধ হয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রশ্ন ১১ঃ চক্ষুদানে ধর্মীয় কোনো বাধা আছে কি?

সাধারণভাবে ইসলাম ধর্মে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। এধরণের দান শুধুমাত্র একজন রোগীকে সাহায্য করেনা বরং তার জীবন রক্ষা করে নতুন জীবন দান করে। ১৯৬৬ সালে মিশরের সর্বোচ্চ মুফতি প্রথম অংগ-প্রত্যঙ্গ দানের জর্ডান এবং ১৯৭৯ সালে সৌদি আরবের রিয়াদে আলেমদের সর্বোচ্চ কাউন্সিল চিকিৎসার প্রয়োজনে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান এবং প্রতিস্থাপনের পক্ষে ফতোয়া জারী করে। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৫ সালে সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে অনুষ্ঠেয় মুসলিম লীগের ফিকাহ্ একাডেমীর ৮ম সভায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান ও প্রতিস্থাপন ইসলাম ধর্মের সাথে সংগতিপূর্ণ বলে মতামত প্রদান করে। ১৯৮৬ সালে জর্ডানের আম্মানে অনুষ্ঠেয় অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কাউন্সিলের ফিকাহ্ কাউন্সিল এর সভায়অঙ্গ-প্রত্যঙ্গদানের স্বপক্ষে (জীবিত এবং মৃত্যুর পর) আদেশ জারী করে (আদেশ নং- ৩/০৭/৮৬)।  সিরিয়া, মিসর, মরক্কো, তিউনিশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ইত্যাদি দেশে বিশেষ করে আলেমদের অংশগ্রহণে চক্ষুদানের মহৎ ধারা ধীরে ধীরে বিকশিত হচ্ছে। ওআইসি মরণোত্তর চক্ষুদানকে অনুমোদন দিয়েছে। মুসলিম প্রধান দেশগুলোতে দিনদিন চক্ষুদান জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। (তথ্যসুত্রঃ সন্ধানী চক্ষুদান সমিতি)

বিশ্বের ধর্মীয় গবেষকরা (স্কলার) ধর্মগ্রন্থ ব্যাখ্যার মাধ্যমে উপরোক্ত সিন্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। তাই পাড়া-মহল্লার কোনো হুজুর যদি ভুল ব্যাখ্যা করেন, তবে বিভ্রান্ত হবেন না।

বৌদ্ধধর্মে চক্ষুদানের সুস্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। খ্রিষ্টধর্মে বা হিন্দুধর্মেও চক্ষুদানের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। (তথ্যসুত্রঃ সন্ধানী চক্ষুদান সমিতি)

চক্ষুদানে শ্রদ্ধেয় জাকির নায়েক সাহেবের সমর্থনঃ
ভিডিও দেখুন: https://www.youtube.com/watch?v=3YEu7ARS9Gc

সৌদি আরবীয় ইসলামী পন্ডিত সালিহ আল মুনাজ্জিদ এর আরবের সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য ওয়েবসাইটে চক্ষুদানের ব্যাপারে সমর্থনঃ
https://islamqa.info/en/21381
https://islamqa.info/en/107690

OIC (Organization of Islamic Cooperation) এর স্থায়ী বাংলাদেশী প্রতিনিধি জনাব আবদুল্লাহ আল-মারুফ এর ব্যাখ্যাঃ
https://www.facebook.com/shuvowhtevr/videos/10156276496245168/

প্রশ্ন ১২ঃ মরণোত্তর চক্ষুদান প্রক্রিয়ার মাঝে কি টাকা-পয়সার লেন-দেন হয়?

না। চক্ষুদান প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি বিনামূল্যে হয়। চক্ষুদাতা বিনামূল্যে চক্ষুদান করেন সন্ধানীকে, এবং সন্ধানী বিনামূল্যে চক্ষুদান করে অন্ধ ব্যাক্তিদের। চক্ষু কেনাবেচা করা আইনত  দণ্ডনীয় অপরাধ এবং ধর্মীয়ভাবে হারাম।

প্রশ্ন ১৩ঃ চশমা পরতে কি চক্ষুদান করা যায়?

হ্যাঁ অবশ্যই করা যায়। কোনো সমস্যা না… চশমা পড়া মানে হচ্ছে চোখের লেন্সে সমস্যা… কর্ণিয়াতে সমস্যা না… মরণোত্তর চক্ষুদানে কর্ণিয়া কালেক্ট করা হয়। সুতরাং চশমা পড়া ব্যক্তিও মৃত্যুর পর চক্ষুদান করতে পারবেন।

প্রশ্ন ১৪ঃ চক্ষুদানের মাধ্যমে আপনি কাদের সাহায্য করছেন?

চক্ষুদানের মাধ্যমে কর্ণিয়াজনিত কারণে অন্ধ হয়ে যাওয়া মানুষদের সাহায্য করছেন আপনি। আপনার মাধ্যমে সর্বোচ্চ দুইজন মানুষ আবার সুন্দর পৃথিবী দেখার সুযোগ পাবে।

 

CALL SANDHANI

অভিভাবকরা মৃত ব্যাক্তির চক্ষুদানের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। মারা যাবার ৬ ঘন্টার ভেতর চোখ/কর্ণিয়া সংগ্রহ করতে হয়, তাই চক্ষুদাতা মারা যাবার কিছুক্ষনের মধ্যে অভিভাবকরা সন্ধানীর সাথে যোগাযোগ করুনঃ 01511555567 অথবা 01785777744

JOIN US ON FACEBOOK

PRE-REGISTRATION

একজন অন্ধের চোখ ফিরিয়ে দিতে আমাদের ওয়েবসাইট থেকে Pre-Registration করুন। "সন্ধানী চক্ষুদান সমিতি" আপনার সাথে যোগাযোগ করে রেজিস্ট্রেশন ফাইনাল করে দিবে।